
While welcoming the fact that the Supreme Court has finally taken a suo-motu cognisance of the regressive order by saying that the order was ‘totally insensitive, inhuman’ and ‘unknown to the tenets of law’
Post Date: March 23, 2025

রোজ পাঁচটা করে পেপার আসে মহসিন মাস্টারের বাড়িতে। অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক। শিক্ষকতা করে জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় কাটিয়ে দিলেও পেপার পড়ার অভ্যাসটা তার পুরাতন না। গত দশ বছর ধরে পড়ছেন, তবে একা না, সঙ্গে স্ত্রীও যোগ দিয়েছেন। একটা ঘটনা তাড়া করতে করতে তারা খবরের কাগজে আসক্ত হয়ে উঠেছেন। ৫টা কাগজই দেশের শীর্ষস্থানীয়। এর মধ্যে একটা ইংরেজিও আছে।
পেপার আসে বেশ সকালেই। কিন্তু দুজনে সকালের নাস্তা সেরে গোসল করে পেপার নিয়ে বসেন। বিষয়টা তাদের কাছে প্রার্থনার মতো দাঁড়িয়ে গেছে। অনেকটা সময় নিয়ে দুজনে প্রতিটা পাতা উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে দেখবেন। যেহেতু কোনো সন্তান নেই, তাই সংসারে কারো জন্যে কোনো তাড়া নেই তাদের। প্রতিটা পেপার, প্রতিটা পাতা, প্রতিটা কলাম ভালো করে পড়বে দুজনে। পড়া শেষ হলে মহসিনের স্ত্রী রাবেয়া ক্যাচিটা আনবেন। লাল কালি দিয়ে দাগ দেওয়া খবরগুলো মহসিন ওর হাতে একটা একটা করে তুলে দেবেন, তিনি বেশ যত্ন নিয়ে কাটবেন। ছবি থাকলে ছবিসহ, না থাকলে শুধু খবরটুকু। একটুও এদিকসেদিক হবে না। এতো সময় নিয়ে কাটবেন যেন তাড়াতাড়ি কাটলে ভালো লাগা দ্রুতই ফুরিয়ে যাবে। বিরক্ত হওয়ার বদলে মহসিন আরো আগ্রহ নিয়ে দেখবেন। ফেলে আসা যৌথজীবনে স্ত্রীর আর কোনো কাজ তিনি এত আগ্রহ নিয়ে দেখেননি।
সবগুলো ধর্ষণ এবং ধর্ষণসংক্রান্ত খবর মহসিন রাবেয়ার হাতে তুলে দেবেন, রাবেয়া একটা একটা করে কাটবেন। একটা একটা করে ধর্ষণের খবর কাটবেন আর ওর চোখেমুখে আলো খেলে যাবে। একটা একটা করে ধর্ষণের খবরের কাটিং মহসিন হাতে নেওয়া মাত্রই মহসিনেরও চোখেমুখে সেই আলো ঝিলিক মারবে। যত বেশি ধর্ষণের খবর, তত বেশি খুশি ওরা। কোনো খবরে যদি লেখা থাকে বছরের পর বছর ধর্ষণের বিচার না পেয়ে পথে পথে ঘুরছে ধর্ষণের শিকার কন্যার পিতা, মাতা। তখন মহসিন চিৎকার করে হাসতে হাসতে বলবেন, ধর্ষণের বিচার? ধর্ষণের আবার বিচার হয় নাকি? এটা কি বিচার হওয়ার মতো কোনো অপরাধ?
ধর্ষণেরও আজকাল বিচার চায়? মানুষের কাণ্ডজ্ঞান দেখে বাঁচি না! বলে হেসে উঠবেন রাবেয়াও।
কাটিংগুলো এবার তারা আলাদা করেন। একদিকে রাখেন নতুন ধর্ষণ, আরেক দিকে রাখেন পুরাতন ধর্ষণের ফলোআপ, আরেক দিকে রাখেন ধর্ষণসংক্রান্ত কলাম বা কোনো এনজিও অথবা সংগঠনের সমীক্ষা। ওদের আগ্রহ মূলত নতুন ধর্ষণের দিকে।
আজ কত? ক্যাটাগরি অনুযায়ী আলাদা করার কাজ শেষ করে মহসিন জানতে চান।
বারোটা। রাবেয়া উত্তর দেন। ওরা নতুন ধর্ষণের ঘটনাটা কেবল গোণে।
গতকালের থেকে দুটো কম হলো যে! মহসিন এমন করে বলেন যেন এতে ওর মনটা খারাপ হয়ে গেছে। এশিয়া কাপে বাংলাদেশ মাত্র ২ রানে হেরে যাওয়াতেও এত কষ্ট পাননি এই ক্রিকেটপ্রেমী লোকটা।
সব খবর তো আসে না। কত খবরের চাপ মফস্বলের পাতায়। সব ধর্ষণের খবর ছাপতে পারে নাকি? কত গুরুত্বপূর্ণ খবর বাদ যায়, আর সামান্য ধর্ষণ...। রাবেয়া এমন করে বলেন যেন মনে হয় স্বামীকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।